ইতিহাস
১৯৩০ সালের ঋষিকেশ দাস এটি নির্মাণ করেন। ১৯৩৬ সালে খান বাহাদুর কাজী আবদুর রশীদ বাগানবাড়িটি কিনে নেন। নামকরণ করেন ‘রশীদ মঞ্জিল’। কিন্তু ‘রোজ গার্ডেন’ নামটি বিস্তৃতি লাভ করে। কাজী আবদুর রশীদের মৃত্যুর পর মালিকানা পান তাঁর বড় ছেলে কাজী মোহাম্মদ বশীর (হুমায়ুন সাহেব)। সেসময় ভবনটি ‘হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত পায়। ১৯৬৬ সালে বেঙ্গল স্টুডিও এবং মোশন পিকচার্স লিমিটেডের নিকট এটি ইজারা দেওয়া হয়। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে রোজ গার্ডেন রাজ-রাজড়া ও জমিদারদের কাহিনি সংশ্লিষ্ট বহু চলচ্চিত্র নির্মাণের জনপ্রিয় স্পটে পরিণত হয়। এখানে চিত্রায়িত প্রথম কাহিনিচিত্র ‘হারানো দিন’। পরবর্তী বংশধররা এর মালিকানা ফিরে পান ১৯৯৩ সালে।
রাজনীতির আঁতুড়ঘর
ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয় এই রোজ গার্ডেনে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে একটি বৈঠকে এই বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক হন টাইঙ্গালের শামসুল হক। জেলে থাকা অবস্থায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বর্তমান অবস্থা
১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রাসাদটিকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ‘সরকারি ক্রয় আইন’ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সরকার বাড়িটি কিনে নেয়। একই বছরের ৮ আগস্ট ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রাসাদটিতে ‘ঢাকা মহানগর জাদুঘর’ নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছ। যেটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে উন্মুক্ত করা হবে।
দর্শনীয় স্থাপত্য
সুবিশাল গম্বুজ, বৃহৎ স্ফটিকস্বচ্ছ ঝাড়বাতি, শ্বেত পাথরের মূর্তি, কৃত্রিম ফোয়ারা, ঝর্ণা, শান বাঁধানো পুকুর ও অনন্য স্থাপত্য শৈলী রয়েছে রোজ গার্ডেনে। পশ্চিম বাহু এবং উত্তর বাহুর মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে কাঠ, রঙিন কাচ ও লোহার সমন্বয়ে তৈরি এবং সেগুলি জটিল জ্যামিতিক নকশা, লতাপাতা ও বিভিন্ন প্রাণীর মোটিফে অলংকৃত। করিন্থীয়-গ্রিক শৈলী অনুসরণে ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। এটি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। বিহারটিকে স্থানীয় লোকজন ‘গোপাল চিতার পাহাড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করত।