(৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১)
(২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)
কবি, সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষবিদ। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
জন্মস্থান: কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে (মাতা-পিতার চর্তুদশ সন্তান, অষ্টম পুত্র )।
উপাধি: গুরুদেব, কবিগুরু, বিশ্বকবি।
ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, আন্নাকালী পাকড়াশী, নবীন কিশোর শর্মণ, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা, ভূতনাথ বাবু।
পিতা: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
মাতা: সারদাসুন্দরী দেবী।
স্ত্রী: মৃণালিনী দেবী (আসল নাম ভবতারিণী দেবী, বিয়ে হয় ১৯৮৩ সালে ও মৃত্যু হয় ১৯০২ সালে এবং রবীন্দ্রনাথের শ্বশুর বাড়ি খুলনায়)।
পারিবারিক উপাধি: কুশারী।
বংশ: পীরালি ব্রাহ্মণ বাংলার ব্রাহ্মণ সমাজের একটি ‘থাক’ বা উপসম্প্রদায়। ভারত-বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রে এই ‘থাক’ ব্রাহ্মণদের দেখা যায়। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা ছিলেন এই থাকভুক্ত ব্রাহ্মণ।
বাল্যকালে প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। দেশের প্রচলিত শিক্ষার প্রতি রবীন্দ্রনাথের অনাগ্রহ দেখে মেজদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। ১৮৭৮ সালে মেজদার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। তবে পড়া অসম্পূর্ণ রেখে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
নীলকমল গোষাল, রাজনারায়ণ বসু।
❖ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুরস্কার/সম্মাননা
➣ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ( ১৩ নভেম্বর, ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি সংস্করণ song offerings এর জন্য )।
➣ নাইট বা স্যার উপাধি ( ইংরেজ সরকার কর্তৃক ৩ জুন, ১৯১৫ সালে প্রদান করা হয়। তবে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাউলাট অ্যাক্ট- এর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক সমাবেশে ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ গণহত্যা চালালে তার প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন )।
➣ ডি. লিট উপাধি (৭ আগস্ট, ১৯৪০ সাল, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।
➣ ডি. লিট উপাধি (২৯ জুলাই, ১৯৩৬ সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় )।
➣ ডি. লিট উপাধি (২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ সাল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় )।
➣ ডি. লিট উপাধি ( ১৯৩৫ সাল, কাশী বিশ্ববিদ্যালয় )।
বঙ্গদর্শন ( ১৯১০), ভারতী ( ১৮৯৮), সাধনা ( ১৮৯৪), তত্ত্ববোধিনী ( ১৯১১) ও ভান্ডার ( ১৯০৫)।
অন্নদাশঙ্কর রায় – জীবনশিল্পী
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় – বিশ্বকবি
ক্ষিতিমোহন সেন – কবিগুরু
মহাত্মাগান্ধী – গুরুদেব
চীনা কবি চি. সি লিজন – ভারতের মহাকবি
সংস্কৃত কলেজ – কবি সার্বভৌম
ত্রিপুরারাজ – ভারত ভাস্কর
➢বনফুল: প্রথম লিখিত কাব্যগ্রন্থ ( জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, দ্বিতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ)।
➢ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী: ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
➢লিপিকা: গদ্যছন্দে রচিত প্রথম কাব্য।
➢শেষলেখা: শেষ কাব্যগ্রন্থ, মৃত্যু পর প্রকাশিত হয়।
➢নোবেল পুরস্কার: সাহিত্যে নোবেল পান ১৯১৩ সালে। ২৪ মার্চ, ২০০৪ সালে শান্তিনিকেতন থেকে নোবেল পুরস্কার চুরি হয়।
➢স্মরণ: স্ত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা কাব্যগ্রন্থ ।
➢বলাকা: গতিবাদের কাব্য বলা হয়।
➢বনফুল কাব্যকে সুকুমার সেন কাব্যোপন্যাস বলে অভিহিত করেন।
প্রভাতসঙ্গীত: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।
কড়ি ও কোমল: চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।
মানসী: নিষ্ফল কামনা, দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ।
চিত্রা: উর্বশী, বিজয়িনী, জীবনদেবতা, স্বর্গ হতে বিদায়, ১৪০০ সাল, দুই বিঘা জমি, এবার ফিরাও মোরে।
উৎসর্গ: আমি চঞ্চল হে, তোমার পাছে সহজে বুঝি।
ক্ষণিকা: ক্ষণিকা, যথাসময়, বোঝাপড়া, অচেনা, বিদায়, সেকাল, উদাসীন, শেষ।
খেয়া: পথের শেষ, শেষ খেয়া, ঘাটের পথ, বিদায়, দিঘী, আগমন, বৈশাখে, জাগরণ।
নবজাতক: বুদ্ধভক্তি, হিন্দুস্থান, রাজপুতলা।
আকাশ-প্রদীপ: গোধূলিতে নামল আঁধার।
পুনশ্চ: ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি।
সোনার তরী, পুরস্কার, বসুন্ধরা, নিরুদ্দেশ যাত্রা, হিং টিং ছট, বিপদে মোরে রক্ষা করো, আমাদের ছোট নদী, মাঝি, শেষ চিঠি, ১৪০০ সাল, আফ্রিকা, শেষের কবিতা, দুই বিঘা জমি, নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ, অকর্মার
বিভ্রাট, ক্ষণিকা, দায়মোচন, কোপাই, আষাঢ়, সবুজের অভিযান, সাজাহান, আত্মত্রাণ, প্রশ্ন, ন্যায়দণ্ড, জলছবি, জীবনের জল ছবি, রাজপ্রসাদ, আত্মশক্তি, মহুয়া ।
হিন্দুমেলার উপহার: প্রথম প্রকাশিত কবিতা। অমৃতবাজার পত্রিকায় ২৫ ফেব্রয়ারি ১৮৭৪ সালে তের বছর বয়সে প্রকাশিত হয়।
করুণা: উপন্যাসটি (১৮৭৮) প্রথম লেখা হলেও রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। এটি 'ভারতী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলীতে ‘করুণা’ প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি শেষ হয় নি বলে উপন্যাসের সম্পূর্ণ মর্যাদা পায় নি (অসমাপ্ত উপন্যাস)।
বৌ-ঠাকুরাণীর হাট: রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস (১৮৮৩)। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
রাজর্ষি: ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস (১৮৮৩)। উপন্যাসটির প্রথম অংশ নিয়ে বিসর্জন নাটকটি রচিত।
চোখের বালি: সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস (১৯০৩)। ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ উপন্যাসটি অবলম্বনে চোখের বালি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
নৌকাডুবি: সামাজিক উপন্যাস (১৯০৬) । বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রজাপতির নির্বন্ধ: হাস্যরসাত্মক উপন্যাস (১৯০৮)। উপন্যাসটি রবীন্দ্র-গ্রন্থাবলি (হিতবাদীর উপহার) সংকলনে চিরকুমার সভা নামে প্রকাশিত হয়।
গোরা: মহাকাব্যিক ও রাজনীতিক উপন্যাস (১৯১০)। রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
ঘরে বাইরে: রাজনৈতিক উপন্যাস (১৯১৬) । চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস।
চতুরঙ্গ: সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস (১৯১৬) । সাধুভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
যোগাযোগ: সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস (১৯২৯)। মাসিক বিচিত্রায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশকালে তিন-পুরুষ নাম ছিল।
শেষের কবিতা: রোম্যান্টিক-মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস (১৯২৯)।
মালঞ্চ: সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস (১৯৩৪) । নরনারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।
চার অধ্যায়: রাজনৈতিক উপন্যাস (১৯৩৪)। উপন্যাসটিতে সশস্ত্র বিপ্লববাদের বিরুদ্ধে বিতৃষ্ণা প্রকাশ করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
দুইবোন: রবীন্দ্রনাথের একটি ছোট উপন্যাস (১৯৩৩)। বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
➢রাজনৈতিক উপন্যাস: চার অধ্যায়, ঘরে বাইরে, গোরা।
➢ঐতিহাসিক উপন্যাস: বৌ ঠাকুরানীর হাট, রাজর্ষি ( প্রথম হিন্দিতে অনূদিত )।
➢সামাজিক উপন্যাস: দুইবোন, নৌকাডুবি, চোখের বালি, যোগাযোগ।
➢চোখের বালি: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
➢চতুরঙ্গ: ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস।
➢চার অধ্যায়: ব্রিটিশ কারাগারে বন্দীদের উৎসর্গ করা হয়।
➢শেষের কবিতা: রোমান্টিক কাব্যধর্মী উপন্যাস। এই উপন্যাসটিতে ভাষাবিদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম পাওয়া যায়।
☛গোরা: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আন্দময়ী।
☛যোগাযোগ: কুমুদিনী, মধসূদন, বিপ্রদাস।
☛ঘরে বাইরে: বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ।
☛চার অধ্যায়: অতীন, ইন্দ্রনাথ, এলা।
☛চোখের বালি: মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা, বিহারী।
☛শেষের কবিতা: অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল।
☛নৌকাডুবি: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা।
☛দুইবোন: শর্মিলা, উর্মিলা, শশাঙ্ক।
☛মালঞ্চ: নীরজা, সরলা, আদিত্য।
ভিখারিণী: (১৮৭৪, প্রথম ছোটগল্প, ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় )।
ল্যাবলেটরী: সর্বশেষ ছোটগল্প।
প্রেমের গল্প: একরাত্রি, সমাপ্তি, শেষের রাত্রি, মাল্যদান, নষ্টনীড়, প্রায়শ্চিত, দৃষ্টিদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, স্ত্রীর পত্র, রবিবার, শেষ কথা, ল্যাবরেটরি, মহামায়া, মানভঞ্জন, দুরাশা, অধ্যাপক, পাত্র ও পাত্রী।
সামাজিক গল্প: পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, হৈমন্তী, ছুটি, দেনা-পাওনা, পণরক্ষা, কর্মফল, ব্যবধান, দিদি, মেঘ ও রৌদ্র, দান প্রতিদান, পয়লা নম্বর, পুত্রযজ্ঞ, পরীক্ষা, যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, নির্বুদ্ধিতা, অনধিকার প্রবেশ।
প্রকৃতি ও মানব সম্পর্কিত গল্প: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই।
অতি প্রাকৃত গল্প: মনিহার, জীবিত ও মৃত, গুপ্তধন, নিশীথে, ক্ষধিত পাষাণ, কঙ্কাল, মাস্টার মশাই, সম্পত্তি সমর্পণ।
গল্প সংকলন: তিন সঙ্গী, সে, গল্পস্বল্প, গল্পগুচ্ছ।
নষ্টনীড়: চারুলতা, অমল, ভূপতি।
সমাপ্তি: মৃন্ময়ী।
পোস্টমাস্টার: রতন।
কাবুলিওয়ালা: মিনি, রতন, খুকি।
অতিথি: তারাপদ।
স্ত্রীরপত্র: মৃণাল।
মেঘ ও রৌদ্র: গিরিবালা, শশীভূষণ।
শাস্তি: দুখিরাম, ছিদাম, রাধা, চন্দনা।
জীবিত ও মৃত: কাদম্বিনী।
অপরিচিতা: কল্যাণী।
মুসলমান চরিত্র আছে: ক্ষুধিত পাষাণ, সুভা, মুকুট, কাবুলিওয়ালা গল্পে।
❖ অন্যান্য সাহিত্যকর্ম
❖ আত্মজীবন/ স্মৃতি বিষয়কগ্রন্থঃ
জীবন স্মৃতি ( ১৯১২), ছেলেবেলা, আত্মপরিচয়, চরিত্র।
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র ( তাঁর প্রথম গদ্যগ্রন্থ ), জাপান যাত্রী, রাশিয়ার চিঠি, জাভা যাত্রীর পত্র, পথের সঞ্চয়, পারস্য, য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী এবং যাত্রী।
❖ পত্র সাহিত্য
ছিন্নপত্র ( ভাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রেরসংকলন), পথে ও পথের প্রান্তে ( নির্মল কুমারি মহলনিবিশকে লেখা ), ভানুসিংহের পত্রাবলী ( রানু অধিকারীকে উদ্দেশ্যে করে লেখা )।
রম্য রচনা: পঞ্চভূত
রাজনৈতিক প্রবন্ধ:
কালান্তর, ভারতবর্ষ, স্বদেশ, পরিচয়, সভ্যতার সংকট ( সর্বশেষ গদ্যরচনা ), আত্মশক্তি।
সাহিত্য বিষয়ক রচনা:
আধুনিক সাহিত্য, প্রাচীন সাহিত্য, লোক সাহিত্য, সাহিত্যের পথে, সাহিত্যে স্বরূপ।
ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধ:
মানুষের ধর্ম, ধর্ম, সঞ্চয়।
বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ:
বিশ্বপরিচয়।
ভাষাতত্ত্ব ও শিক্ষা সম্পর্কিত রচনা:
বাংলা ভাষার পরিচয়, শব্দতত্ত্ব, ছন্দ, শিক্ষা, বিশ্বভারতী।
ব্যাক্তিগত রচনা:
বিচিত্র প্রবন্ধ।
❁ইংরেজি প্রবন্ধ – ন্যাশনালিজম, রিলিজিয়ন অব ম্যান।
❁তবে প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ – বিবিধ প্রসঙ্গ।
❁সর্বশেষ প্রবন্ধ – সভ্যতার সংকট।
➣ সংকলন
চয়নিকা: ( ১৯০৯, প্রথম কবিতা সংকলন )।
সঞ্চয়িতা: শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলন।
বসন্ত নাটক: কাজী নজরুল ইসলামকে।
তাসের দেশ নাটক: নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে।
কালের যাত্রা নাটক: শরৎচন্দ্রকে।
পূরবী কাব্য: আর্জেন্টিনার কবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে, রবীন্দ্রনাথ তাঁর নাম দেন বিজয়া।
❖ একনজরে অন্যান্য
➢১৯০১ সালে বোলপুর ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২১ সালে এটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত হয়।
➢১৮৭৫ সালে অমৃতবাজার পত্রিকায় ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতা প্রকাশিত হয়।
➢নিজের লেখা ১৩টি নাটকে রবীন্দ্রনাথ অভিনয় করেন।
➢সর্বশেষ বিদেশযাত্রা করেন শ্রীলঙ্কায় ১৯৩৪ সালে।
➢১৯০১ সাল থেকে শান্তিনিকেতনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
➢বাংলায় টি এস এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ।
➢বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে ১৯০৫ সালে রচনা করেন ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটি।
➢রবীন্দ্রনাথকে ব্যঙ্গ করে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা নাটকের নাম ‘ আনন্দ বিদায়’।
➢রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কাজী নজরুল লেখেন কবিতা ‘রবিহারা’।
➢রবীন্দ্রনাথ জমিদারী পরিদর্শনে সাজাদপুর আসেন ১৮৯০ সালে, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ আসেন ১৯৯২ সালে।
➢রবীন্দ্রনাথ জমিদারিতে নৌকাযোগে যেতেন চলনবিলের মধ্য দিয়ে।
❖ জাতীয় সংগীত
‘আমার সোনার বাংলা’ কবিতার প্রথম দশ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বাজানো হয়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাজানো হয় প্রথম চার লাইন। এই কবিতায় মোট লাইন আছে ২৫টি। সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বরলিপিকার ইন্দিরা দেবী। এটি গীতবিতান গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে প্রথম গাওয়া হয়। ১৯০৫ সালে সঞ্জীবনী ও বঙ্গদর্শন পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এর সুর নেওয়া হয় বাউল কবি গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তাঁরে’ গান থেকে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয়। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
❖ গীতাঞ্জলি থেকে Song offerings
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে। তিনি গীতাঞ্জলির জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি ইংরেজি গীতাঞ্জলির জন্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পান। যা তিনি নিজেই অনুবাদ করেন।
ইংল্যান্ডের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ম্যাকমিলান কোম্পানি ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি প্রকাশ করে। গীতাঞ্জলি শব্দটি বাংলাভাষী ছাড়া অন্যরা বুঝতে পারবে না বলে বইয়ের প্রচ্ছদে গীতাঞ্জলির নীচে উপ-শিরোনাম লেখা হয় song offerings।
রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি গীতাঞ্জলি ইংল্যান্ডে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘লন্ডন ইন্ডিয়া সোসাইটির‘ মাধ্যমে। মুদ্রিত হয় মাত্র সাড়ে সাতশ কপি। তার মধ্যে ‘আড়াইশ’ কপি বিক্রির জন্য, বাকি পাঁচশ কপি সদস্যদের জন্য। চারমাস পর ১৯১৩ সালে ১ মার্চ ম্যাকমিলান কোম্পানি গীতাঞ্জলির সুলভ সংস্করণ প্রকাশ করে। তখনি বইটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবি-খ্যাতি।
বাংলা গীতাঞ্জলি ও ইংরেজি গীতাঞ্জলির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাংলা গীতাঞ্জলির মধ্যে সংকলিত হয়েছিল মোট ১৫৭টি কবিতা ও গান। অন্যদিকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে কবিতা ও গানের সংখ্যা ১০৩টি।
বাংলা গীতাঞ্জলির ৫৩টি রচনা গৃহীত হয় ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে।
এছাড়া বিভিন্ন কাব্য ও নাটক থেকে নেওয়া হয় আরও ৫০টি কবিতা ও গান। এই ৫০টি রচনার মধ্যে গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি, অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।
অর্থাৎ নয়টি কাব্যগ্রন্থ থেকে ১০২টি কবিতা ও গান এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি গানের অনুবাদ-সংকলনই ইংরেজি ভাষার GITANJALI বা Song Offerings ।
১৯১২ সালে প্রকাশিত GITANJALI পড়ে অভিভূত হন বিখ্যাত ইংরেজ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস। ১৯১৩ সালে ১ মার্চ ম্যাকমিলান কোম্পানি যে সংস্করণ প্রকাশ করে, তাতে ইয়েটস লিখিত ১৬ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ ভূমিকা সংযোজিত হয়। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি GITANJALI উৎসর্গ করেন তাঁর ইংরেজ বন্ধু রোদেনস্টাইনকে। এই দুই কারণে অনেকে মনে করে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি GITANJALI অনুবাদ করেননি।
ইংরেজি অনুবাদের পাণ্ডুলিপি ইংল্যান্ডের পাতাল রেলে হারিয়ে যায়। পরে লস্ট প্রপারটির অফিস থেকে এটি ফেরত পান। GITANJALI এর ইংরেজি অনুবাদটি রবীন্দ্রনাথ প্রথম পড়তে দেন তাঁর ইংরেজ বন্ধু রোদেনস্টাইনকে। তিনি এটি পাঠ করে অভিভূত হন এবং এটি পড়তে দেন ইয়েটসকে। ইয়েটস নিজেও পড়ে বিস্মিত হন। মূলত ম্যাকমিলান কোম্পানি থেকে বইটি প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথের নাম ইউরোপ-জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে নোবেল পুরস্কারের জন্য রবীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন ইংরেজ কবি স্টার্জ মূর। মূরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নোবেল কমিটির সদস্য পের হ্যালট্রসের ওপর দায়িত্ব পড়ে প্রস্তাবটির গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। হ্যালট্রসের রিপোর্ট পেয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
১৩ নভেম্বর, ১৯১৩ সালে সুইডিষ নোবেল কমিটি সাহিত্যে নোবেল জয়ী হিসেবে রবীন্দ্রনাথের নাম ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য টমাস হার্ডিসহ ২৮ জনের নাম ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলির অনুবাদ শুরু করেন বাংলাদেশের শিলাইদহে বসে। তিনি নোবেল ভাষণে সে-কথাই ব্যক্ত করেন। [ সূত্র:- অশেষ রবীন্দ্রনাথ – বিশ্বজিৎ ঘোষ ]
❖ রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ
আইনস্টাইন ( দেখা হয় চারবার ), জর্জ বার্নাড , জগদীশচন্দ্র বসু, বিখ্যাত জার্মান সাংবাদিক দিমিত্রি মারিয়ানফ।
গীতিনাট্য: বাল্মীকির প্রতিভা ( ১৮৮১, প্রথম প্রকাশিত নাটক), বসন্ত, মায়ার খেলা, কালমৃগয়া।
কাব্যনাট্য: বিসর্জন (১৮৯০), প্রকৃতির প্রতিশোধ, রাজা ও রানী, রুদ্রচন্দ্র, মালিনী।
নৃত্যনাট্য: শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা, নটীর পূজা, পরিশোধ, চণ্ডালিকা।
নাট্যকাব্য: নরকবাস, বিদায় অভিশাপ, সতী, লক্ষীর পরীক্ষা।
সামাজিক নাটক: বাঁশরী, শোধ বোধ, মুক্তির উপায়।
রূপক ও সাংকেতিক নাটক: রক্তকরবী, মুক্তধারা, ফাল্গুনী, ঋণশোধ, ডাকঘর, কালের যাত্রা, অচলায়তন, তাসের দেশ, প্রায়শ্চিত্ত, রাজা, গুরু, অরূপরতন।
প্রহসন:
চিরকুমার সভা, বৈকুন্ঠের খাতা ( ১৮৯৭), শেষ রক্ষা, হাস্য কৌতুক, ব্যঙ্গ কৌতুক, গোড়ায় গলদ।
❖ একনজরে
➢গোড়ায় গলদ: তাঁর প্রথম গদ্য নাটক ( প্রহসন )।
➢বৈকুন্ঠের খাতা: খামখেয়ালি সভার আহ্বানে রচনা করেন। এটিতে তিনি কেদারের ভূমিকায় করেন।
➢রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের রচিত ১৩টি নাটকে অভিনয় করেন।
➢বিসর্জন: তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যনাট্য।
➢রাজা ও রানী: প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত নাটক।
❖ নাটকের চরিত্র
রক্তকরবী: রাজা, কিশোর, রঞ্জন, নন্দিনী।
রাজা ও রানী: বিক্রম, সুমিত্রা।
রাজা: রাজা, ঠাকুরদা।
ডাকঘর: সুধা, অমল, ঠাকুরদা।
বিসর্জন: রঘুপতি, জয়সিংহ, অর্পণা।
অচলায়তন: আদিনপুন্য, পঞ্চক।
বাল্মীকির প্রতিভা: ঋষি বাল্মীকি, লক্ষ্ণী, সরস্বতী।
বৈকুন্ঠের খাতা: বৈকুন্ঠ, অবিনাশ, কেদার।
শারদোৎসব: সন্ন্যাসী।
❖ রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব ভ্রমণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদেশ ভ্রমণ শুরু হয় প্যারিস হয়ে লন্ডন গমনের মাধ্যমে ১৮৭৮ সালে । ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত তিনি পাঁচটি মহাদেশের তেত্রিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন। তবে ইংল্যান্ড (১৮৭৮, ১৮৯০, ১৯১২, ১৯১৩, ১৯২১) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাদ দিলে অন্য দেশসমূহ ভ্রমণ করেন ১৯১৩-তে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর।
উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো- ফ্রান্স, হংকং, চীন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, মেক্সিকো, ইতালি, নরওয়ে, হাঙ্গেরি, যুগোশ্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, গ্রিস, মিসর, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, বার্মা, হল্যান্ড, সোভিয়েত রাশিয়া, ইরান, ইরাক ও শ্রীলঙ্কা। ১৯৩৪ শ্রীলঙ্কা (সিংহল) ভ্রমণ শেষে কবি শান্তিনিকেতনে ফেরেন ২৮ জুন। এরপর তিনি আর বিদেশ ভ্রমণে যাননি।
❖ রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উক্তি
➢রাতের সব তাঁরাই আছে দিনের আলোর গভীরে ( হঠাৎ দেখা )।
➢কালের যাত্রা ধ্বনি শুনিতে কি পাও, তারি রথ নিত্যই উধাও ( বিদায় )।
➢মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম শ্যাম ( ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী )।
➢আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের কর ( নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ )।
➢এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি ( দুই বিঘা জমি )।
➢কাঁচা আমের রসটা অম্লরস— কাঁচা সমালোচনাও গালিগালাজ। অন্য ক্ষমতা যখন কম থাকে তখন খোঁচা দিবার ক্ষমতাটা খুব তীক্ষ্ণ হইয়া উঠে।
➢মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ ( সভ্যতার সংকট )।
➢কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই ( জীবিত ও মৃত )।
➢প্রত্যেক দেশের যুবকদের ওপর ভার রয়েছে সংসারের সত্যকে নূতন করে যাচাই করে নেওয়া, সংসারকে নতুন পথে বহন করে নিয়ে যাওয়া, অসত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা।
➢সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা ( ঐক্যতান )।
➢ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে/ অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।
➢মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই ( প্রাণ)।
➢ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা।
➢অসম্পূর্ণ শিক্ষায় আমাদের দৃষ্টি নষ্ট করিয়া দেয়—পরের দেশের ভালোটা তো শিখিতে পারিই না, নিজের দেশের ভালোটা দেখিবার শক্তি চলিয়া যায়।
➢মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন।
➢সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।
➢দেশ কেবল ভৌগোলিক নয়, দেশ মানসিক।
➢মানুষ পণ করে, পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিবার জন্য।
➢কী গভীর দুঃখে মগ্ন সমস্ত আকাশ, সমস্ত পৃথিবী।
➢বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থণা, বিপদে আমি না যেন করি ভয় ( আত্মত্রাণ )।
➢মানুষ যা চায় ভুল করে চায়, যা পায় তা চায় না।
➢গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা ( সোনার তরী )।
➢নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
➢সমগ্র শরীরকে বঞ্চিত করে কেবল মুখে রক্ত জমলে তাকে স্বাস্থ্য বলা যায় না।
➢যে আছে মাটির কাছাকাছি সে কবির বাণী লাগি কান পেতে শুনি (ঐক্যতান )।
➢নমো নমঃ নমঃ সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি ( দুই বিঘা জমি )।
❖দ্বারকানাথ ঠাকুরের বিপুল জমিদারি ঋণের ভারে ভরাডুবি হলেও তা কম ছিলনা। এই জমিদারি নদীয়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলার মধ্যে ছড়ানো ছিল। তাছাড়া উড়িষ্যাতেও একটুকরো জমিদারি ছিল।
❖বাংলায় বৃহৎ তিনটি পরগনা বিরাহিমপুর, সাজাদপুর ও পতিসর নিয়ে ঠাকুর পরিবারের জমিদারি ছিল। ভাগাভাগি হলে সাজাদপুর পড়ে গগনেন্দ্রনাথ ভ্রাতৃত্রয়ের ভাগে, বিরাহিমপুর ও পতিসর থাকে এজমালিতে। তারপর ১৯২১ সালে আবার ভাগাভাগি হলে শিলাইদহ ও বিরাহিমপুর পরগনা পড়ে সত্যেন্দ্রনাথের পুত্র সুরেন্দ্রনাথের অংশে এবং রবীন্দ্রনাথের অংশে পড়ে পতিসর ও কালীগ্রাম। [ সূত্র:– শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ- প্রমথনাথ বিশী ]
❖ রবীন্দ্রনাথের পারিবারিক ঐতিহ্য
আদিতে রবীন্দ্রনাথের পারিবারিক পদবি ছিল কুশারি, ঠাকুর নয়। তাঁদের আদি বাসস্থান কলকাতায় নয়, পূর্ব বাংলার যশোর-খুলনা অঞ্চলে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে পিরালি ব্রাহ্মণ হিসেবে তাঁদের পরিবার কৌলীন্য হারায়। কথিত আছে, একজন হিন্দু ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে মোহাম্মদ তাহির খান নাম গ্রহণ করে। তিনি প্রখ্যাত সেনাপতি ও ধর্মপ্রচারক খান জাহান আলীর সহযোগি ছিলেন। ‘পির আলী’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। তাঁর ষড়যন্ত্রে যশোর-খুলনা অঞ্চলের কিছু ব্রাহ্মণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য হন এবং অনেক ব্রাহ্মণ জাত হারায়। এ ধরনের ব্রাহ্মণেরা পিরালি ব্রাহ্মণ নামে একটি জাতিচ্যুত গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ঘটনাটি ১৪৩৮ সালে ঘটে।
জয়দেব ও কামদেবের ‘শুকদেব’ নামে এক ভাই ছিল। তিনিও ভাইদের ক্রটির জন্য জাত খোয়ান। তাঁর কন্যাকে বিয়ে করে পিঠাভোগের জমিদার জগন্নাথ কুশারী ‘পিরালি’ দোষে দুষ্ট হন। এই জগন্নাথ কুশারীই হলেন ঠাকুর পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর পুত্রের প্রপৌত্র ভাগ্যান্বেষণে ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে বা সপ্তদশ শতাব্দীর উষালগ্নে কলকাতায় আসেন। তিনি কলকাতায় এসে জেলেপল্লিতে বসতি স্থাপন করেন। জেলেরা এ বংশের পুরোনো ইতিহাস জানত না। যেহেতু এরা ব্রাহ্মণ ছিল, সেহেতু জেলেরা তাদের ঠাকুর বলে ডাকত। এভাবে কুমারী পদবি ঠাকুরে পরিণত হয়। কিন্তু এতেও তারা জাতে উঠতে পারেনি। যখন দ্বারকানাথ ঠাকুর ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মধর্ম প্রবর্তন করেন, তখন তাঁদের পরিবার কুলীনদের কাছে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দ্বারকানাথের স্ত্রী দিগম্বরী ছিলেন যশোরের নগেন্দ্রপুরের মেয়ে। রবীন্দ্রনাথের মায়ের বাড়ি ছিল যশোর-খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামে। রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়িও একই অঞ্চলে। ঠাকুর হলেও রবীন্দ্রনাথের পরিবারকে হিন্দু কুলীন সমাজের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হতো না। [ সূত্র:- দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে- আকবর আলি খান ]
