মীর মশাররফ হোসেন
(১৩ নভেম্বর ১৮৪৭ – ১৯ ডিসেম্বর ১৯১২, কোথাও কোথাও মৃত্যু সাল ১৯১১ আছে)
ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, জীবনীকার ও শ্রেষ্ঠ সমাজ সচেতন ব্যক্তি
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
জন্মস্থান: লাহিনীপাড়া গ্রাম, কুমারখালি উপজেলা, কুষ্টিয়া।
ছদ্মনাম: গাজী মিঞা, উদাসীন পথিক। তিনি ‘ভেড়াকান্ত’ ছদ্মনামে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেছেন।
❖শিক্ষাঃ নিজ বাড়িতে মুনশির কাছে আরবি ও ফারসি শেখেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কুষ্টিয়া স্কুলে। পরে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করে কলকাতার কালীঘাট স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি।
❖কর্মজীবনঃ কর্মজীবনের শুরুতে পিতার জমিদারি দেখাশুনা করেন। পরে ফরিদপুর নবাব এস্টেটে চাকরি নেন এবং দেলদুয়ার এস্টেটের ব্যবস্থাপক হন ১৮৮৫ সালে। এক সময় চাকরি ছেড়ে লাহিনীপাড়ায় ফিরে আসেন এবং পরে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় গিয়ে ১৯০৩ - ০৯ পর্যন্ত অবস্থান করেন। এছাড়া প্রথম জীবনে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ ও কবি ঈশ্বরগুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কাজ করতেন।
❖সম্পাদিত পত্রিকাঃ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) ।
❖সাহিত্য চর্চাঃ তিনি ‘গ্রাম্য বার্তা’ এবং ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা দুটিতে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
❖উপন্যাসঃ
রত্নবতী – ১৮৬৯ প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্হ। এটি মুসলিম ঔপন্যাসিক রচিত প্রথম উপন্যাস এবং কৌতুকাবহ উপন্যাস। রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে ‘ধন বড় না বিদ্যা বড়’ এ বিতর্কই এ উপন্যাসের উপজীব্য।
বিষাদ সিন্ধু – এটি বিভক্ত মহররম পর্ব (১৮৮৫), উদ্ধার পর্ব (১৮৮৭), এজিদবধ পর্বে (১৮৯১)। ইতিহাস আশ্রিত ও কাব্যধর্মী উপন্যাস। কারবালার বিষাদময় ঘটনা নিয়ে লেখা উপন্যাসটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
উদাসীন পথিকের মনের কথা – ১৮৯০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
গাজী মিয়ার বস্তানী – ১৮৯৯ প্রকাশিত। আত্মজীবনীমূলক ব্যঙ্গরসাত্মক উপন্যাস।
বাঁধা খাতা – ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত।
রাজিয়া খাতুন – ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত।
তহমিনা – ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত।
নিয়তি কি অবনতি – ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত।
❖আত্মজীবনীঃ
বিবি কুলসুম – দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুমকে উপজীব্য করে লেখা।
আমার জীবনী – সর্বশেষ গ্রন্হ। এটি ১২ খণ্ডে ১৯০৮ সালে থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
❖কাব্যগ্রন্থঃ
গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩), বিবি খোদেজার বিবাহ (১৯০৫), বাজিমাৎ (১৯০৮), পঞ্চনারী পদ্য (১৮৯৯), প্রেম পরিজাত (১৮৯৯), মদিনা গৌরব (১৯০৬), মুসলেম বীরত্ব।
❖প্রবন্ধঃ
আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০ সালে প্রকাশিত), গো-জীবন (১৮৮৯), খুতবা।
➢গো-জীবন – হিন্দু-মুসলিমদের একত্রিক করার প্রত্যয়ে রচনা করেন। এতে কৃষিভিত্তিক সমাজে গোহত্যা নিষিদ্ধ করার পক্ষে বলা হয়। কিন্তু মামলা ও প্রতিবাদের মুখে তিনি এটি প্রত্যাহার করে নেন।
❖নাটকঃ
বসন্তকুমারী – ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত। এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম নাটক।
জমিদার দর্পন – ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত। তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক।
বেহুলা গীতাভিনয় – ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত।
টালাভিনয়- ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত।
❖প্রহসনঃ
এর উপায় কী (১৮৭৫, মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম প্রহসন), ফাঁস কাগজ (১৮৯৯), ভাই ভাই এইতো চাই (১৮৯৯), এ কি (১৮৯৯)।
❖মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের চরিত্রঃ
বিষাদ সিন্ধু – ইমাম হাসান, হোসেন, মায়মুনা, সিমার, জয়নব।
বসন্তকুমারী – বীরেন্দ্র সিংহ, নরেন্দ্র সিংহ, রেবতী।
গো-জীবন – রাধাকান্ত, মুক্তকেশী, নয়নতারা, ইয়ার মদন।
জমিদার দর্পণ – নরুন্নেহার, ফজু মিয়া, আবু মোল্লা, ফজুমিয়া, জমিদার মেরাজ আলী, কৃষ্ণমণি। এটি মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে বাংলা সাহিত্যে প্রথম নাটক।
রত্নবতী – সুকুমার, সুমন্ত, রত্নবতী।
গাজী মিয়াঁর বস্তানী – হাকিম ভোলানাথ, বেগম ফয়জারুন্নেসা, মনিবিবি।
