❖কর্মজীবনঃ পড়াশোনা শেষ করার পর যশোর শহরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদে চাকরি পান। ১৮৬০ সালে মেদিনীপুরের নেগুয়ায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। তার পর খুলনাতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। ১৮৭১ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদ থেকে প্রমোশন পেয়ে মুর্শিদাবাদের কালেক্টর হন।১৮৯১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চাকরি জীবন থেকে অবসর নেন।
❖উপন্যাসঃ
Rajmohan’s Wife (১৮৬২, প্রথম উপন্যাস), দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬), রাজসিংহ (১৮৮২), সীতারাম (১৮৮৮), আনন্দমঠ (১৮৮২) ও দেবী চৌধুরাণী (১৮৮২), রজনী (১৮৭৭), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), সীতারাম (১৮৮৭), মৃণালিনী, যুগলাঙ্গুরীয়, বিষবৃক্ষ, চন্দ্রশেখর, ইন্দিরা।
ত্রয়ী উপন্যাসঃ সীতারাম, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী (এগুলো রাজনৈতিক উপন্যাস)।
সামাজিক উপন্যাসঃ বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, রজনী, ইন্দিরা।
❖উপন্যাসের চরিত্রঃ
দুর্গেশনন্দিনী- জগৎসিংহ, আয়েশা, তিরোত্তমা, বিমলা।
কপালকুণ্ডলা- নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, মতিবিবি।
কৃষ্ণকান্তের উইল- কৃষ্ণকান্ত রায়, রোহিণী, গোবিন্দলাল, হরলাল।
বিষবৃক্ষ- সূর্যমুখী, নগেন্দ্র, কুন্দনন্দিনী।
রজনী- অমরনাথ, লবঙ্গলতা।
চন্দ্রশেখর- শৈবালিনী, প্রতাপ (নায়ক), চন্দ্রশেখর।
রাজসিংহ- রাজসিংহ, চঞ্চলকুমারী, জেবুন্নেসা।
প্রবন্ধ গ্রন্থঃ কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫), লোক রহস্য (১৮৭৪), বিজ্ঞান রহস্য (১৮৭৫), মুচিরাম গুড়ের জীবন-চরিত, কৃষ্ণ চরিত্র (১৮৮৬), সাম্য (১৮৭৫, প্রত্যাহারকৃত), বিবিধ প্রবন্ধ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (১৯০২), ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন (১৮৮৮)।
কাব্যগ্রন্থঃ ললিতা তথা মানস (১৮৫৬)।
❖বিশেষ তথ্যঃ
➢ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়–১৮৫২ সালে।
➢বাংলা ভাষায় তুলনামূলক সমালোচনা সাহিত্যের প্রথম রচয়িতা –বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
➢১৮৭৫ সালে রচনা করেন ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত যেটি রয়েছে তাঁর – আনন্দমঠ উপন্যাসে।
➢১৮৬৪ সালে India Field সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় –Rajmohan’s Wife (প্রথম উপন্যাস) উপন্যাস।
➢বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস – দুর্গেশনন্দিনী।
➢বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস –সীতারাম।
➢দেশপ্রেমমূলক ও তত্ত্বপ্রধান উপন্যাস –সীতারাম, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী।
➢আনন্দমঠ উপন্যাসের বিষয়বস্তু – ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
➢আনন্দমঠ উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন – নরেশ চন্দ্রসেন গুপ্ত।
➢আনন্দমঠ উপন্যাসটিরইংরেজি অনুবাদ হলো – The Abbey of Blis!
➢ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো – আনন্দমঠ।
➢মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণধর্মী উপন্যাস – রজনী।
❖উক্তিঃ
➢‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ (নবকুমার কে কপালকুণ্ডলা বলে) – এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ (কপালকুণ্ডলা)।
➢কতকগুলি লোক আছে, এদেশের লোক তাহাদের বর্ণনার সময় বলে, “ইহারা কুকুর মারে, কিন্তু হাঁড়ি ফেলে না।”
➢তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?
➢প্রদীপ নিবিয়া গেল (বিষবৃক্ষ)।
➢কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না (রাজসিংহ উপন্যাস)।
➢বাবা কার ক্ষেতে ধান খেয়েছি যে, আমাকে এর ভিতরে পুরিলে?
➢“মরিলে যদি রণজয় হইত,তবে মরিতাম। বৃথা মৃত্যু বীরের ধর্ম নহে।” (আনন্দমঠ)
➢“মীরজাফর গুলি খায় ও ঘুমায়। ইংরেজ টাকা আদায় করে ও ডেসপাচ লেখে। বাঙ্গালি কাঁদে আর উৎসন্ন যায়।” (আনন্দমঠ)