ফারাক্কা বাঁধ ও লং মার্চ

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ভারতের ১৮ কিলোমিটার ভিতরে গঙ্গা নদীর ওপর একটি বাঁধ নির্মাণ করে ভারত। যেটি ফারাক্কা বাঁধ নামে পরিচিত। এই বাঁধের প্রভাবে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়।
ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর ১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণ করে ফারাক্কা বাঁধ। বাঁধটির দৈর্ঘ্য ২,২৪৫ কিলোমিটার। এখান থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী পর্যন্ত ফিডার খালটির দৈর্ঘ্য ৪০ কিমি। ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল বাঁধটি চালু করা হয়। বাঁধ নির্মাণে সহায়তা করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। প্রসঙ্গত, পরীক্ষামূলক চালুর কথা বলে মাত্র ৪১ দিনের জন্য (২১ এপ্রিল ৭৫-৩১ মে ৭৫) ফারাক্কা বাঁধ চালু করা হয়। সেই পরীক্ষামূলক প্রত্যাহারই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
বাঁধ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল, গঙ্গা নদী থেকে ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে ৪০ হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহার করা। এই পানি হুগলি-ভাগীরথী নদী ব্যবস্থায় প্রবাহিত করে শুষ্ক মৌসুমে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা।
ফারাক্কা লং মার্চ: ১৯৭৬ সালের ১৮ এপ্রিল মওলানা ভাসানী ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে ভারতের তৎকারীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পত্র লিখেন। পত্রে ফারাক্কা লং মার্চের কথা অবহিত করা হয়। ২ মে মওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ‘ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি’ গঠিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী শহর থেকে ফারাক্কা অভিমুখে মিছিল শুরু হয়। লং মার্চকে স্মরণে ১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ পালিত হয়।