❖শিক্ষাঃ আইএ এবং বিএ (১৯২৯) রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডিয়ান ভার্ণাকুলার বিভাগ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ (১৯৩১)।
❖উপাধিঃ পল্লিকবি (গ্রামজীবন ও প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এই উপাধি পান)।
❖পুরস্কারঃ প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), একুশে পদক (১৯৭৬), স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ও ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে মনোনীত হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সম্মাননাঃ সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি বা ডি.লিট (১৯৬৯)প্রদান করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
❖বিশেষ তথ্যঃ
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
তিনি এমএ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে দীনেশচন্দ্র সেনের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ কাজে নিযুক্ত হন।
তিনি ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকার’ সংগ্রাহক ড.দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে গবেষণা সহকারী (গ্রাম্যগাঁথা সংগ্রাহক) ছিলেন।
১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন।
১৯৪৪ সাল থেকে তিনি প্রথমে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন এবং ঢাকার কমলাপুরে নিজ বাড়িতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন।
কলেজজীবনে তাঁর রচিত ‘কবর’ কবিতাটি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ‘প্রবেশিকা বাংলা’ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাঁর ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থটি ই এম মিলফোর্ড কর্তৃক The Field of Embroidered Quilt নামে অনূদিত হয়।
১৯৭০ সালে বারবারা পেইন্টার ও ইয়ান লাভলক আমেরিকার পেগাসাস থেকে তাঁর ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কাব্যগ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ ‘জিপসি ওয়ার্ফ’ প্রকাশ করেন। ইউনেস্কো গ্রন্থটিকে এশীয় সিরিজের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের সম্মাননা দেয়।
প্রথম কবিতা ‘মিলন গান’ মোসলেম ভারত পত্রিকায় ১৯২১ সালে প্রকাশিত হয়।
আসমানী কবিতাটি ‘এক পয়সার বাঁশী’ কাব্যের।
❖কাব্যগ্রন্থঃ
|
নাম
|
প্রকাশের সাল
|
|
রাখলী: প্রথম কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- রাখালী, রাখাল ছেলে, কবর, পল্লী জননী, তরুণ কিশোর। ‘করব’ কবিতা প্রকাশিত হয়- কল্লোল পত্রিকায়।
|
১৯২৭
|
|
নক্সী কাঁথার মাঠ
|
১৯২৯
|
|
বালুচর
|
১৯৩০
|
|
ধানখেত
|
১৯৩৩
|
|
সোজন বাদিয়ার ঘাট
|
১৯৩৪
|
|
রূপবতী
|
১৯৪৬
|
|
মাটির কান্না
|
১৯৫৮
|
|
এছাড়া সুচয়নী (খণ্ড কবিতার সংকলন, ১৯৬১), মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩), হলুদ বরণী (১৯৬৬), কাফনের মিছিল (১৯৮৮), মাগো জ্বালায়ে রাখিস আলো (১৯৭৬), হাসু কান্দে (১৯৬৩), সকিনা (১৯৫৯) তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
|
❖উপন্যাসঃ বোবা কাহিনি – ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত। মহাজন কর্তৃক শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষী আজহারের ভূমিহীন হওয়া। শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভন্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত।
বউ টুবানীর ফুল – এটি তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস।
❖নাটকঃ পদ্মাপার (১৯৫০), বেদের মেয়ে (১৯৫১, গীতিনাট্য), মধুমালা (১৯৫১),পল্লীবধূ, গ্রামের মায়া (১৯৫৯), বাঁশের বাঁশি।
❖ভ্রমণ কাহিনিঃ চলে মুসাফির (১৯৫২), হলদে পরীর দেশে (১৯৬৭), যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮), জার্মানির শহরে বন্দরে (১৯৭৬)।
❖স্মৃতিকথাঃ যাদের দেখেছি (১৯৫২) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (১৯৬১), ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৭২), স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)।
❖শিশুতোষ গ্রন্থঃ হাসু (১৯৩৮), এক পয়সার বাঁশি (১৯৪৯), ডালিম কুমার (১৯৫১), আসমানীর কবি ভাই।
❖আত্মজীবনীঃ জীবন কথা (১৯৬৪)।
❖গ্রল্পগ্রন্থঃ বাঙালীর হাসির গল্প (প্রথম খণ্ড ১৯৬০, দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)। গ্রন্থটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে Folk Tales of Bangladesh নামে অনূদিত হয়।
❖গানের সংকলনঃ রঙ্গিলা নায়েক মাঝি (১৯৩৫), গাঙ্গের পাড় (১৯৪৬), জারি গান (১৯৬৮), মুর্শীদা গান।