বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এককালের প্রমত্তা স্রোতাস্বিনী লবলং, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষা, বানার, তুরাগ, বালু , বংশী, চিলাই প্রভৃতি নদীর বিধৌত গৈরিক মৃত্তিকার কোলে, শাল অরণ্যের সবুজে আচ্ছাদিত জেলা গাজীপুর। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে এই জেলায় সংঘটিত হয় ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ’।
❖ অবস্থান: উত্তরে ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জ, দক্ষিণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী, পশ্চিমে ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলা।
❖ ইতিহাস: এক সময়ের প্রাচীন জনপদ ‘ভাওয়াল’ পরগনা বর্তমানে গাজীপুর নামে পরিচিত। ভাওয়াল গবেষক নুরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্নের মতানুসারে, চণ্ডাল রাজাদের পতনের পর ভাওয়াল গাজীদের অধিকারে আসে। কারও কারও মতে, ভদ্রপাল বা ভবপাল নাম থেকে ভাওয়াল নামকরণ হয়। ভারত বিভাগের পর আওয়ামী লীগের তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ ভাওয়ালগড় জেলা নামে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিন্যাসের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা সদর উত্তর মহকুমাকে ভাওয়ালগড় মহকুমা নামে জয়দেবপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে তখন থেকে এ অঞ্চল ‘ভাওয়ালগড় জেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। স্বাধীনতার পর ভাওয়াল, ভাওয়ালগড় ও গাজীপুর-এ তিনটি নাম প্রস্তাব করে সরকারকে পাঠানো হয়। ফলে গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলাকে ঢাকা জেলা থেকে বিভক্ত করে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন সরকার ‘গাজীপুর’ নামকরণ করে জেলাটির উদ্বোধন করেন।
❖ ইতিহাস: এক সময়ের প্রাচীন জনপদ ‘ভাওয়াল’ পরগনা বর্তমানে গাজীপুর নামে পরিচিত। ভাওয়াল গবেষক নুরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্নের মতানুসারে, চণ্ডাল রাজাদের পতনের পর ভাওয়াল গাজীদের অধিকারে আসে। কারও কারও মতে, ভদ্রপাল বা ভবপাল নাম থেকে ভাওয়াল নামকরণ হয়। ভারত বিভাগের পর আওয়ামী লীগের তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ ভাওয়ালগড় জেলা নামে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিন্যাসের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা সদর উত্তর মহকুমাকে ভাওয়ালগড় মহকুমা নামে জয়দেবপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে তখন থেকে এ অঞ্চল ‘ভাওয়ালগড় জেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। স্বাধীনতার পর ভাওয়াল, ভাওয়ালগড় ও গাজীপুর-এ তিনটি নাম প্রস্তাব করে সরকারকে পাঠানো হয়। ফলে গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলাকে ঢাকা জেলা থেকে বিভক্ত করে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন সরকার ‘গাজীপুর’ নামকরণ করে জেলাটির উদ্বোধন করেন।
❖ কাপাসিয়া গ্যাস ক্ষেত্র: জেলার কাপাসিয়ায় অবস্থিত। গ্যাস ক্ষেত্রটি খনন প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল সেপ্টেম্বর ২০০৭ থেকে-জুন ২০১১ সাল পর্যন্ত।
❖ কামতা গ্যাস ক্ষেত্র: কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের কামতায় জেলার একমাত্র গ্যাস ক্ষেত্রটি অবস্থিত। গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৮৪ সালের ২৯ নভেম্বর এবং গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয় ১৯৯১ সালের ২৬ আগস্ট।
❖ ধান বিল: বেলাই বিল, মকেশ্বর বিল, লবলং বিল, ডাকুরাই বিল।
❖ সজীব ওয়াজেদ উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র: গাজীপুরের তেলীপাড়ায় অবস্থিত উপগ্রহ ভূ কেন্দ্রটি ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।
❖ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক: জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা সাফারী পার্কটি থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে তৈরি এবং ২০১৩ সালে চালু করা হয়।
❖ ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান: ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। এর মোট আয়তন ৫০২২ হেক্টর। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭৪) আইন অনুসারে উদ্যানটি গড়ে তোলা হয়।
❖ টাকার টাঁকশাল: সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড দেশের টাকা ছাপানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৯ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
❖ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা: অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। চীনের কারিগরী সহযোগিতায় কারখানাটি ১৯৭০ সালের ৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।
❖ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট: ১৮৮০ সালের ফেমিন কমিশন রিপোর্টের ভিত্তিতে ‘বেঙ্গল ল্যান্ড রেকর্ডস ডিপার্টমেন্টের’ অধীনে এর যাত্রা শুরু হয়। বস্তুতপক্ষে উপমহাদেশের এই অঞ্চলে (বর্তমান বাংলাদেশ) সরকারি পর্যায়ে কৃষি কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত এখান থেকে। গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন কৃষি বিভাগকে ল্যান্ড রের্কড ডিপার্টমেন্টের আওতামুক্ত করে একে আলাদা মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ‘নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচারেল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ নামে ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকেই প্রকৃত পক্ষে তৎকালীন বাংলায় কৃষিতে গবেষণা কার্যক্রমের সূচনা। ১৯০৮ সালে ঢাকা ফার্ম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে জয়দেবপুরে ঢাকা ফার্ম স্থানান্তরিত হয়। ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘ডাইরেক্টরেট অব এগ্রিকালচার (রিসার্চ এন্ড এডুকেশন)’ বিলুপ্ত হয় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
❖ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট: জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে এর যাত্রা শুরু। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’, যা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। সংক্ষেপে এই সংস্থাটি ব্রি বা বি আর আর আই (বাংলাদেশ রাইচ রিচার্স ইনস্টিটিউট) নামেও পরিচিত।
❖ জাতীয় ডাটা সেন্টার: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ভেতর ২ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অবস্থিত জাতীয় ডাটা সেন্টার। চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হয় সেন্টারটি বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আপটাইম (জি-ক্লাউড প্রযুক্তিভিত্তিক) ইনস্টিটিউট কর্তৃক সার্টিফাইড। এটি ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর চালু হয় এবং এতে প্রায় ৫৫ হাজার ওয়েবসাইট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ১১ কোটি ডাটা সংরক্ষিত আছে।
❖ জাগ্রত চৌরঙ্গী: দেশে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য। গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৯ মার্চের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে নিহত ও আহত বীরদের স্মরণে ভাস্কর আবদুর রাজ্জাকের তত্ত্বাবধানে ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয় জাগ্রত চৌরঙ্গী।
এছাড়া রয়েছে, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ইজতেমা মাঠ, সাকাশ্বর বৌদ্ধস্তম্ভ, ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী, কপালেশ্বর, একডালা দুর্গ, বলিয়াদী জমিদার বাড়ী, সেইন্ট নিকোলাস চার্চ, ভাওয়াল রাজবাড়ী, বক্তারপুর ঈশা খাঁর সমাধি।
❖ তাজউদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিচালক ( বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে) ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।
❖ মেঘনাদ সাহা: পদার্থ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াতলী গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে থার্মাল আয়নাইজেসন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিখ্যাত। তাঁর আবিষ্কৃত সাহা আয়োনাইজেসন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলি ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়।
❖ আবু জাফর শামসুদ্দীন: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস- পদ্মা মেঘনা যমুনা, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী, দেয়াল।
❖ এড. আ ক ম মোজাম্মেল হক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন রাজনীতিবিদ। বর্তমানে গাজীপুর-১ আসনের সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
❖ ফকির সাহাবউদ্দীন আহমদ: রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। ১৯৭২ সালে গঠিত খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য। সংবিধানের বিধি মোতাবেক ১৯৭৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
এছাড়া রয়েছেন, আর্চবিশপ পৌলিনুস ডি কস্তা, আহসানউল্লাহ মাস্টার, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, মো: সামসুল হক, শামসুল হক, বিজ্ঞানী ও গবেষক অধ্যাপক ড. অজিত কুমার সাহা।
❖ একদৃষ্টিতে
➢ আয়তন: ১৭৪১ দশমিক ৫৩ বর্গ কিলোমিটার।
➢ জনসংখ্যা: ৫,২৬৩,৪৭৪ জন (জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী)।
➢ শিক্ষার হার: ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
➢ সংসদীয় আসন: ৫টি।
➢ উপজেলা: (৫টি) গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ।
➢ সিটি কর্পোরেশন: ১টি (গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন)।
➢ ইউনিয়ন: ৪৪টি।
➢ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়।