❖শিক্ষাঃ গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কলকাতার সরকারি সংস্কৃত কলেজে (১৮২৯ সাল থেকে ১৮৪১ সাল ) পড়াশুনা করেন এবং ১৮৩৯ সালে ব্যাকরণ, কাব্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, স্মৃতি, ন্যায় ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
❖উপাধিঃ
|
বিদ্যাসাগর
|
সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে (১৯ বছর বয়সে)।
|
|
সি আই ই
|
ভারত সরকার কর্তৃক ১৮৮০ সালে।
|
|
করুণা সাগর
|
মাইকেল মধুসূদন কর্তৃক।
|
❖পরিচিতঃ তাকে বলা হয় ‘বাংলা গদ্যের জনক’ এবং বিরাম বা যতি চিহ্নের প্রবর্তক । বাংলা গদ্যে প্রথম বিরাম বা যতি চিহ্নের ব্যবহার করেন ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ গ্রন্থে।
❖সম্পাদিত পত্রিকাঃ তত্ত্ববোধিনী।
❖জনশিক্ষা ও শিশুশিক্ষা বিষয়ক গ্রন্থঃ
|
বোধোদয় (১৮৫১): চেম্বার্স রচিত Rudiment of Knowledge অবলম্বনে।
|
|
কথামালা (১৮৫৬): ঈসপের Fables গল্পের অবলম্বনে (নীতিমূলক গল্প সংগ্রহ)।
|
|
বর্ণ পরিচয় ( প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, ১৮৫৫): এ বইটি ক্ল্যাসিকের মর্যাদা লাভ করে।
|
|
আখ্যান মঞ্জরী (১৮৬৩), ঋজুপাঠ, শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪), শ্লোকমঞ্জরী,
বাংলা অভিধান।
|
❖ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থঃ
➢বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭): হিন্দি ভাষায় রচিত হিন্দি কবি লাল্লুজীর ‘বৈতাল পচ্চীসী’ অবলম্বনে রচিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম কাহিনীধর্মী গ্রন্থ এবং তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এই গ্রন্থে ১৮৪৭ সালে প্রথম বিরাম চিহ্নের প্রয়োগ ঘটান।
➢বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮): জন ক্লার্ক ম্যার্শম্যানের রচিত ‘History of Bengal’ গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত।
➢ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯): শেক্সপিয়রের ‘Comedy of Errors’ অবলম্বনে রচিত।
➢মহাভারত (১৮৬০): ব্যাসদেবের সংস্কৃত ‘মহাভারত’ অবলম্বনে রচিত।
➢শকুন্তলা (১৮৫৪): কালিদাসের সংস্কৃত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ অবলম্বনে রচিত।
➢সীতার বনবাস (১৮৬০): ভবভূতি রচিত ‘উত্তররামচরিত’ নাটক ও বাল্মীকির রামায়ণের উত্তরকাণ্ড থেকে নেওয়া।
➢বাসুদেব চরিত্র: ভাগবতের কৃষ্ণলীলা থেকে নেওয়া।
❖মৌলিক রচনাঃ
|
প্রভাবতী সম্ভাষণ (রচনাকাল-১৮৬৩, প্রকাশকাল- ১৮৯২)
|
বাংলা গদ্যসাহিত্যে প্রথম শোকগাঁথা।
|
|
বাল্য বিবাহের দোষ
|
রচনাকাল- ১৮৫০
|
|
বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব
|
রচনাকাল- প্রথম, দ্বিতীয়- ১৮৫৫
|
|
বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার
|
রচনাকাল- প্রথম ১৮৭১, দ্বিতীয় ১৮৭৩
|
|
সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত শাস্ত্র বিষয়ক প্রস্তাব
|
সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস (বাঙালির লেখা প্রথম গ্রন্থ)।
|
❖বেনামি (মৌলিক রচনা)ঃ
|
অতি অল্প হইল (১৮৭৩)
|
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য ছদ্মনামে।
|
|
ব্রজ বিলাস (১৮৮৪)
|
কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য ছদ্মনামে।
|
|
আবার অতি অল্প হইল (১৮৭৩)
|
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য ছদ্মনামে।
|
|
রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬)
|
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য ছদ্মনামে।
|
|
বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দু ধর্ম রক্ষিণী সভা (১৮৮৪)
|
কস্যচিৎ তত্ত্বান্বেষণ ছদ্মনামে।
|
❖ব্যাকরণ গ্রন্থঃ
ব্যাকরণ কৌমুদি: রচনাকাল (প্রথম থেকে চতুর্থ ভাগ যথাক্রমে ১৮৫৩, ১৮৫৩, ১৮৫৪, ১৮৬২)।
সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা: রচনাকাল (১৮৫১)।
❖আত্মজীবনীঃ
বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত (স্বরচিত)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম আত্মচরিত। প্রকাশকাল ১৮৯১ সাল।
❖করুণাসাগর নামে পরিচিতিঃ
বিদ্যাসাগর দয়া এবং মানবিকতার জন্য করুণাসাগর নামে পরিচিতি পান। তাঁকে এ বিশেষণ প্রথমে দেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
❖একনজরেঃ
➣ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে পণ্ডিত হিসেবে যোগদান করেন – ১৮৪১ সালে।
➣তাঁর বেতাল পঞ্চবিংশতি প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে সূচনা হয় – নতুন যুগের।
➣বাংলা গদ্যে সংযোজন করা ১৫টি বিরাম চিহ্ন – ইংরেজি ভাষা থেকে নেওয়া।
➣লর্ড ডালহৌসির শাসনামলে তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয় – ২৬ জুলাই, ১৮৫৬ সাল।
➣বিধবা বিবাহ আইন পাশ হওয়ার পূর্বে তিনি রচনা করেন - বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)।
➣বিদ্যাসাগর কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা ভারতের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। এটি বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত।
≜বিধবা বিবাহ, বিদ্যাসাগর ও রক্ষণশীল সমাজঃ
❖ বিদ্যাসাগর বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের আন্দোলনের জন্যে পুরোধা-ব্যক্তিত্ব।
❖ সংস্কৃত কলেজ ছাড়ার কয়েক মাস পরে ১৮৪২ সালের এপ্রিল মাসে বিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয় বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায়। আর এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দ্বিতীয় গ্রন্থ অক্টোবর মাসে। এভাবে বিধবা বিবাহের পক্ষে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া ছাড়াও, বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে একটি আইন প্রণয়নের জন্যে তিনি সামাজিক আন্দোলন আরম্ভ করেন। ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে তিনি এর পক্ষে বহু স্বাক্ষরসংবলিত ১টি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠান।
❖ পরে এ রকমর আরও ২৪টি আবেদনপত্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়। অনেকগুলি আবেদনপত্র আসে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চল থেকে। এসব আবেদনপত্রে প্রায় ২৫ হাজার স্বাক্ষর ছিল।
❖ অপরপক্ষে, রক্ষণশীল সমাজ আইন প্রণয়নের বিরোধিতা করে সরকারের কাছে ২৮টি আবেদনপত্র পাঠান। তাঁদের যুক্তি ছিল যে, এ রকমের আইন পাশ করে দেশবাসীর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা সরকারের পক্ষে উচিত হবে না। এতে স্বাক্ষর ছিল ৫৫ হাজারেরও বেশি। তা সত্ত্বেও ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিধবা বিবাহ আইন প্রণীত হয়।
≜ বিধবার বিবাহঃ
বিদ্যাসাগর এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে সাফল্য লাভ করায় পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাশ করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানান।