১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর United Nation International Children's Energency Fund (UNICEF) গঠিত হয়। জাতিসংঘের যে সব বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিশুকল্যাণে কাজ করে তারমধ্যে সংস্থাটি অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার যুদ্ধাক্রান্ত দেশের শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বস্ত্র এবং ঔষুধ সরবরাহের জন্য সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ১৯৫২ সালে অনুন্নত, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দানের লক্ষ্যে emergency কথাটি বাদ দিয়ে সংস্থাটির নাম রাখা হয় UN Children's Fund (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)। তবে মূল নামে পরিবর্তন আনা হলেও সংক্ষিপ্ত নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠাতা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও লুডউইক রাজচম্যান। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত। সংস্থাটি ১৯৬৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে। বর্তমানে ১৯০টির বেশি দেশে সংস্থাটি কাজ করছে। সংস্থাটির মাতৃসংস্থা হলো Ucosoc।
❖ সংস্থাটির কর্মকর্তা
বর্তমানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালককে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিয়োগ প্রদান করেন।
❂ ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ
ঢাকায় ইউনিসেফের প্রথম কার্যালয় চালু করা হয় ১৯৪৯ সালে। ১৯৫০-১৯৭০ সাল পর্যন্ত যক্ষা (টিবি), গুটি বসন্ত, ম্যালেরিয়া ও কলেরা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে সংস্থাটি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের সহায়তায় সংস্থাটি তহবিল সংগ্রহ করে। ১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশে জাতিসংঘের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সংস্থাটি বিশেষ সহায়তা করে। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭৮ সালে ৩ লাখ টিউবওয়েল স্থাপন করে। শিশুদের ডায়রিয়া, টিটেনাস, পারটুসিস, যক্ষা, হাম ও পোলিওর টিকা দিতে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি শিশু অধিকার সনদ (সিআরসি) অনুসমর্থন করে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘আইডিইএএল’ নামে কর্মসূচি শুরু করে।
২০০৬ সালে থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু রোধে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রতিরোধক কর্মসূচিতে সহযোগিতা শুরু করে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়, এজন্য এককভাবে এটাই দেশের সর্ববৃহৎ গণস্বাস্থ্য উদ্যোগ। ২০১৩ সালে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদকে (সিআরসি) ভিত্তি ধরে সরকার ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুমোদন দেয়। ২০২১ সালে কোভিড মহামারিতে ভার্চুয়াল ক্লাস শুরু করতে সরকারকে সহায়তা করে এবং কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় কোভিড-১৯ টিকার প্রথম চালান সরবরাহ করে। ২০২২ সালে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ২০ কোটির বেশি কোভিড-১৯ টিকা সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশ জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা প্রদানে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে।
❂ শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯
মানবাধিকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ শিশু অধিকার। ১৯১টি রাষ্ট্র কর্তৃক অনুসমর্থিত হয়ে ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয় ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’। সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির মধ্যে এ সনদটি সর্বোচ্চসংখ্যক রাষ্ট্রের সমর্থন পায়। সনদের প্রথম অনুচ্ছেদে শিশুকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ‘শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সি যেকোনো মানুষকে বোঝাবে’।
❂ সর্বজনীন ঘোষণা ১৯৯০
১৯৯০ সালের ৯ মার্চ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সবার জন্য শিক্ষার বিশ্বজনীন ঘোষণা করা হয়। মৌলিক শিক্ষার প্রয়োজন পূরণে শিক্ষার যে সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা থেকে শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক-প্রত্যেকেই দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হবে এবং আবশ্যকীয়ভাবে সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে তা পরিবর্তিত হবে।
➢ নাম: ক্যাথরিন মেরি রাসেল (নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
➢ জন্ম: ৪ মার্চ, ১৯৬১ সাল।
➢ পড়াশোনা: বোস্টন কলেজ, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় আইন স্কুল।
➢ কর্মজীবন: সাবেক ইউনাইটেড স্টেটস অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ ফর গ্লোবাল উইমেনস ইস্যু (২০১৩ - ২০১৭)। রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের অধীনে রাষ্ট্রপতির সহকারী এবং হোয়াইট হাউস অফিস অফ প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল পরিচালক (২০২০ - ২০২২)। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে ইউনিসেফের অষ্টম নির্বাহী পরিচালক হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিয়োগ প্রদান করেন।